Feeds:
পোস্ট
মন্তব্য

প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর নিরলস সংগ্রামকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। এবারের মূল রচনা আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেবে নিরলস সংগ্রামি এবং দূরদর্শী চিকিৎসক সামন্তলাল সেনের সঙ্গে।

মানব সেবক ডাঃ সামন্তলাল সেন

নিমতলী। এ নামটি আজ আর স্রেফ কোনো ঠিকানা নয়। আগুনের লেলিহান শিখা, রাতের স্নিগ্ধ দিগন্তজুড়ে মৃত্যুদূতের লাল থাবা, একবুক শুদ্ধ বাতাসের জন্য মরণাপন্ন মানুষের গগনবিদারী আহাজারি আর প্রাণপ্রিয় স্বজনের জীবন্ত দগ্ধ হওয়ার দৃশ্য বুকে নিয়ে সবহারা মানুষের কলজে ছেঁড়া মাতমের আরেক নাম এখন নিমতলী। এত মৃত্যু, এত কান্না, এত বিষাদের মধ্যেও ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের করিডরে নিমতলী শোকগাথার সাক্ষী বেঁচে যাওয়া অসহায় নিঃস্ব আহত মানুষগুলোর মৃত্যুভয়ে ভীত চোখে নতুনভাবে বেঁচে থাকার আশা জাগিয়ে তোলার চেষ্টায় সেবারত যেকোনো চিকিৎসক, সেবিকা কিংবা ওয়ার্ডবয়কে নিমতলীর কথা জিজ্ঞেস করলে একরাশ বেদনাহত অনুভূতির পর ভেসে উঠবে একটুকরো তৃপ্তি আর গর্বের হাসি। এ তৃপ্তি দুস্থ মানবতার সেবা করার, দেশের একমাত্র বার্ন ইউনিটের অংশ হতে পারার তৃপ্তি; এ গৌরবের একজন সামন্তলাল সেনের মতো নিঃস্বার্থ মানবসেবীর সাহচর্যে কাজ করতে পারার গৌরব।
‘বাবার বরাবরই শখ ছিল আমাকে ডাক্তারি পড়াবেন। বাবার চাকরিসূত্রে দিনাজপুরে থাকাকালীন স্কুল-কলেজের পাট চুকিয়ে ভর্তি হই চট্টগ্রাম মেডিকেলে। তারপর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যোগ দিই। সেখানে আমার পরিচয় হয় পঙ্গু হাসপাতালের রূপকার ডা. গার্স্টের সঙ্গে। প্রথম দিনই তিনি আমাকে বললেন প্লাস্টিক সার্জারিতে কাজ করার জন্য। এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে আমিও রাজি হয়ে গেলাম।’ ক্যারিয়ারের শুরুর কথা বলছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা, রূপকার ও বর্তমান প্রকল্প পরিচালক ডা. সামন্তলাল সেন।
১৯৪৯ সালে সিলেটের বিশ্বনাথে ওসমানীনগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম এই প্রথিতযশা চিকিৎসকের। নিজের পরিবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা জিতেন্দ্রলাল সেন ছিলেন সামান্য সরকারি চাকুরে। মা ছায়া সেন অতি সাধারণ একজন গৃহিণী। কিন্তু আমার কাছে তাঁরা দুজনই ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। অতি সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়ে হয়েও আমরা পাঁচ ভাই, এক বোনের সবাই আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত, শুধু তাঁদের দুজনের ত্যাগ ও দূরদৃষ্টির জন্য। দুজনই স্বর্গবাসী হলেও আমি এখনো তাঁদের দেখানো পথেই চলি। প্রতিদিন সকালে কাজে বের হওয়ার সময় মা-বাবার ছবিকে প্রণাম করে বের হই। মৃত্যুর মাসখানেক আগে মা আমাকে বলেছিলেন, ডাক্তার হিসেবে গরিব-দুঃখীর সেবা করাই যেন আমার জীবনের একমাত্র ব্রত হয়। তাহলেই তাঁর আত্মা শান্তি পাবে। মায়ের সে কথাকেই আমি আমার কাজের মূলমন্ত্র হিসেবে মানি। মা-বাবার আশীর্বাদই আমার সাফল্যের বড় সূত্র।’
১৯৮২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগ দেওয়ার পরই মূলত পাল্টে যায় তাঁর জীবনদর্শন। শুরু হয় এক বৃহত্তর অর্জনের পথে নিরলস, নিঃস্বার্থ যাত্রা। ডা. সেন বলছিলেন সে সময়ের কথা, ‘স্বপ্ন ছিল বড় প্লাস্টিক সার্জন হব। মানুষের ঠোঁট, নাক, মুখের গড়ন ঠিক করব। কিন্তু এখানে এসে প্রথম অনুভব করলাম এসিডে পোড়া মেয়েদের কষ্ট, আগুনে পোড়া গরিব মানুষের দুর্দশা। এর মধ্যেই একবার আমার বড় মেয়ে অসুস্থ হলে ওর মুখে ছোটখাটো একটা দাগ হয়। ওর বয়স তখন ১০-১১। স্বাভাবিকভাবেই আমাকে একদিন দুঃখ করে বলল, কীভাবে এই দাগ যাবে। আমি তখন এসিডে পোড়া একটি মেয়ের ছবি ওকে দেখিয়ে বললাম, তোমার মুখের দাগ তো চলে যাবে, কিন্তু ভাবো, ওর কী দুঃখ। আমার মেয়ে তখন আমাকে বলে, যেন আমি এসব মেয়ের দুঃখ দূর করার জন্য কিছু করি। সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমার জীবন উৎসর্গ করব পোড়া রোগীদের সেবায়।
‘আমার বা আমার ছেলেমেয়েদের সাফল্যের পেছনে যার হাত সবচেয়ে বেশি, সে আমার সহধর্মিণী, রত্না সেন। এমবিএ করে নিজে চাকরি করেছে, পরিবার সামলেছে আর আমাকে দূরে রেখেছে পারিবারিক সব ঝামেলা থেকে। নইলে আমি যে চাকরি করতাম, তা করে পরিবার সামলে আবার এত বড় একটা কাজে সময় দেওয়া, সফল হওয়া ছিল অসম্ভব। ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্বতন্ত্র বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার পথ মোটেই সহজ কাজ ছিল না।’ ডা. সেন বলছিলেন সেই সময়ের প্রতিকূলতার কথা, ‘আমার সঙ্গে তখন আরও ছিলেন দেশের প্রথম প্লাস্টিক সার্জন মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ও কবিরউদ্দীন আহমেদ। ঢাকা মেডিকেলের একটি ওয়ার্ডে মাত্র আটটি বিছানা ছিল আমাদের জন্য বরাদ্দ, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। আমরা তিনজনই ঠিক করলাম, আগুনে পোড়া রোগীদের জন্য স্বতন্ত্র কিছু করতে হবে। ১৯৮৬ সালে সরকারের কাছে আবেদন করলাম আলাদা বিভাগ করার অনুমতি ও জায়গা চেয়ে। অনুমতি পেলাম, জায়গাও পেলাম, কিন্তু গোল বাধল জায়গা দখল নিয়ে। এখন যেখানে আমাদের ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে ছিল চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের থাকার জন্য শতাধিক ঘর। প্রায় প্রতিদিন আমাকে টেলিফোনে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো, যাতে এই প্রকল্প থেকে আমি সরে আসি। তখনই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন কর্মচারী সমিতির সভাপতি কালাম সরদার ও অন্যরা। আওয়ামী লীগের শেখ সেলিম সাহেবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এ ব্যাপারে। ১৯৯৩ সালে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তবে যাত্রা শুরু করে আমাদের এই স্বতন্ত্র ইউনিট।’
নিমতলী দুর্ঘটনার রাতের সেই ভয়াল স্মৃতি এখনো যেন ক্ষত হয়ে আছে ডা. সেনের হূদয়ে। সে স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে কিছুটা যেন থমকে যান তিনি। সামলে নিয়ে বলেন, ‘নিমতলীতে আগুন লাগার খবর পাই আমি রাত নয়টার দিকে। প্রথমে অবস্থার ভয়াবহতা বোঝা না গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই যখন খবর পেলাম অবস্থা খারাপ। আমি নিজে রওনা হয়ে যাই। যাওয়ার পথে সম্ভাব্য সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ইউনিটে আসতে বলি। হাসপাতালে পৌঁছে প্রথমে চোখে পড়ে সারিবদ্ধ লাশ। একটু এগিয়ে যেতেই দেখলাম, চারদিকে শুধু যন্ত্রণাকাতর আগুনে ঝলসানো মানুষ। বয়স্ক পুরুষ-নারী, শিশু—কে নেই আহতদের মধ্যে! একের পর এক আহতদের নিয়ে আসা হচ্ছিল তখনো। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, আমার ৪০ বছরের চাকরিজীবনে এত পোড়া রোগী দেখিনি কখনো। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের চিৎকার, আহাজারি, আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠল চারপাশ। এ রকম দুর্যোগ সামাল দেওয়ার মতো জনবল, সুযোগ-সুবিধা, পূর্ব অভিজ্ঞতা কিছুই ছিল না আমাদের। কিন্তু তাই বলে বসে ছিল না কেউ; ক্যাজুয়ালটিসহ মেডিকেলের অন্য বিভাগের ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় এমনকি ছাত্রছাত্রীরা পর্যন্ত নিজেদের মতো করে যে যেভাবে পেরেছে আহতদের সেবা করেছে। অনেক নার্সকে দেখলাম, সাদা পোশাক ছাড়াই চলে এসেছে। ঢাকা মেডিকেলের এক ছাত্রী এসে জানতে চাইল কী করতে পারে সে। আমি বললাম, আহতদের চিকিৎসা দিতে না পারো, ট্রলি তো ঠেলতে পারো। সে তা-ই করল। এখনো ৫০ জন রোগীর চিকিৎসা সুবিধাসংবলিত হলেও আমরা ২৩১ জন পোড়া রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছি, যার সবই সম্ভব হয়েছে এখানকার জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক থেকে শুরু করে ওয়ার্ডবয় পর্যন্ত সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায়।’
প্রতিষ্ঠার এই ১৭ বছরে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বার্ন ইউনিটের কর্মপরিধি বেড়েছে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও আছে অনেক। ডা. সেন বলছিলেন, ‘শুধু যে আগুনে পোড়া রোগীর চিকিৎসা আমরা করি, তা কিন্তু নয়। আমাদের প্লাস্টিক সার্জনরা কাটা আঙুল লাগানোর মতো জটিল অপারেশনসহ ঠোঁটকাটা, তালুকাটা ইত্যাদি ধরনের অপারেশন করেন। এ ছাড়া আমাদের আরেকটি প্রকল্পের আওতায় আমরা ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে বিনা মূল্যে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা বাচ্চাদের অপারেশন করে থাকি। নার্সের সংখ্যা বাড়ানো, তরুণ ডাক্তারদের জন্য স্পেশালিটি কোর্স চালু করা, এখানকার কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে নিয়ে আসাসহ আরও বেশ কিছু সুপারিশ প্রক্রিয়াধীন আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবারই আমাদের অতি প্রতীক্ষিত আইসিইউ চালু হয়েছে। আগুনে পোড়া রোগীদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ আমাদের ইউনিট থেকেই নেওয়ার পরিকল্পনাও আছে।’
শুধু বার্ন ইউনিটেই সীমিত নয় তাঁর কর্মপরিধি। এসিডে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রত্যন্ত এলাকায় ছুটে যান প্রতিনিয়ত। অকাতরে কাজ করে চলেছেন এসিডদগ্ধদের পুনর্বাসন বা আত্মকর্মসংস্থানের পথ করে দেওয়ার জন্য। বলছিলেন, ‘এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিল ও ট্রাস্টের সদস্য আমি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠায় অনুদান দিয়ে সহায়তা করেছে প্রথম আলো।’
ডা. সেনের কাছ থেকে বিদায় নেব, এমন সময় দেখা হলো সেই কালাম সরদারের সঙ্গে। সময়ের পরিক্রমায় এখন তিনি ষাটোর্ধ্ব প্রৌঢ়। বললেন, ‘সেন স্যারের মতো ভালো মানুষ খুব নাই। শুধু স্যাররে পছন্দ করার কারণে এই বার্ন ইউনিটের জন্য ১৩৫টি ঘর ভাইঙা দিছিলাম। আজকে বুঝি, কত বড় একটা কাজ স্যার শুরু করছিলেন সেদিন। আর আমরা কত ভাগ্যবান যে এই কাজের সাথে ছিলাম। বার্ন ইউনিট মানেই সেন স্যার; সেন স্যার মানেই বার্ন ইউনিট।’
ডা. সেন মুচকি হাসলেন; বললেন, ‘আসলে এটা ঠিক; আমি নিজেও অনেক সময় আলাদা করতে পারি না আমাকে এটা থেকে। এই ইউনিটটিকে মনে হয় আমার সন্তানের মতো। আমার সব কাজ, মনোযোগের কেন্দ্র বার্ন ইউনিট। প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে যেমন আমি আমার ছেলেমেয়েদের দেখে আসি, তেমনি ইউনিটে ফোন না করে আমি ঘুমাতে পারি না। আমার বাচ্চাদের গায়ে একটা আঁচড় লাগলে আমার যেমন কষ্ট, তেমনি বার্ন ইউনিটের কোনো ক্ষতি হলে আমার ততটুকুই কষ্ট হয়।’
২০০১ সালে কালীগঞ্জে ঠোঁটকাটা একটি মেয়েবাচ্চার অপারেশন করেছিলেন ডা. সেন। ২০০৭ সালে আবার যখন সেখানে যান, খবর পেয়ে সেই মেয়েটি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চলে আসে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে। ‘যে বিদ্যা শিখেছি, তা দিয়ে চাইলে অনেক টাকা কামাতে পারতাম। কিন্তু সাদা অ্যাপ্রোনটা যখন গায়ে দিই, তখন সেই মেয়েটির শ্রদ্ধাবনত দৃষ্টি আর এসিড কিংবা আগুনে দগ্ধ অসহায় রোগীদের চোখের সেই বাঁচার আকুলতা আমাকে অর্থলোভী হতে দেয় না।’ ডা. সামন্তলাল সেন পথ চলতে চান এই সহজ-সুন্দর জীবনদর্শন নিয়েই।

কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো

সুখেই আছে পলাশ

রাজু চত্বরের পাশ দিয়ে হাঁটছি। রোদ্দুরে ঘেমে-নেয়ে একাকার। দু-একজন ফুলবালিকা ফুল নিয়ে আসছে বারবার। হাতের টুকরিতে বাসি ফুল। গোলাপের পাপড়িতে পড়েছে কাঁলচে দাগ। ধমক দিলেও শোনে না মেয়েগুলো। না কেনা পর্যন্ত নিস্তার নেই ওদের কাছ থেকে। পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতেই চোখ পড়ে পলাশের ওপর। আমাকে দেখে এগিয়ে আসে। বলে, ‘চকলেট ন্যান্ ভাইজান। প্রতিটা এক টাকা।’ কথায় অনুরোধের চেয়ে আদেশের সুরই বেশি। হাতের ঝুড়িতে ওর কমদামি চকলেট। এগুলো বিক্রি করেই দিন চলে ছেলেটার। টিএসসিতে সময় কাটাতে আসা মানুষগুলোর প্রায় সবাই-ই চেনে পলাশকে। মাথায় ছোট করে ছাঁটা চুল। মুখে হাসি লেগে থাকে সব সময়। মায়া মায়া দুটো চোখ। পরনে হাফপ্যান্ট। পুরোনো হলেও গায়ের ধোয়া কোর্তা আর সব পথশিশু থেকে আলাদা করেছে তাকে। সারা দিনের বিক্রিতে খুব একটা আয় হয় না। তাতে দুঃখ নেই। গাল টিপে আদর করি ওকে। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও একটা চকলেট কিনি। তারপর পাশে বসিয়ে গল্প শুরু করি।
পলাশের বাড়ি ভৈরবে। বাড়ির কথা মনে পড়ে না খুব একটা। থাকে মায়ের সঙ্গে। ছোট্ট একটা বোন ছিল। বড় আদরের বোন। মা কাজে বাইরে গেলে পলাশই সব সময় থাকত বোনকে নিয়ে। বোনটাও ভাই-ন্যাওটা। ঘর বলতে তাদের আছে কোনোরকমের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই। সেখান থেকেই একদিন বোনটাকে চুরি করে নিয়ে যায় কারা যেন। তারপর খোঁজা হয়েছে অনেক। মা আর ছেলে মিলে পথে ঘুরে ঘুরে করেছে বিলাপ। লাভ হয়নি তাতে। পাওয়া যায়নি বোনটাকে। এই নিয়ে কিছুদিন মন খারাপ ছিল পলাশের। যায়নি কাজে। তারপর আবার যেইকে সেই। খেতে তো হবে। কষ্ট ভুলে চকলেটের ঝুড়িটা নিয়ে আসা হয়েছে টিএসসিতে। ভালোই আছে পলাশ। সবাই তাকে ভালোবাসে।
টিএসসিতে অনেকগুলো সংগঠন। সেখানকার বড় ভাই আর আপুগুলো আদর করেন পলাশকে। তাঁদের সঙ্গে দুষ্টুমি করলে কিছু বলেন না। অনেক জ্বালাতনের পর কখনো কখনো কিনেও নেয় দু-একটা চকলেট। বিক্রি হওয়ার পর টাকা তুলে দেয় সে মায়ের হাতে। পলাশের কাছে এটাই জীবন। এর বেশি কিছু ঢোকে না তার মাথায়। ইশকুলের কথা তোলা হয় না আমার। ঠিকমতো খেতেই পায় না যে ছেলেটি ইশকুল তো তার কাছে বিলাসিতার শামিল।
বন্ধুর সংখ্যাও কম নয় পলাশের। সমবয়সী অনেকেই চকলেট আর ফুল বিক্রি করে। তাদের সঙ্গে মজা করে মারামারি করা হয়। কখনো পরিত্যক্ত পলিথিন পেলে তাতে কাগজ ভরে খেলা হয় ফুটবল। ক্যানটিনে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী খেতে এলেই দল মেলে হাত পাতা হয়। কেউ কিছু দেয়, আবার কেউ বা তাড়িয়ে দেয় দূর-দূর করে। তখন মন খারাপ হয়। গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো ধনী মানুষ হতে ইচ্ছে করে। তাদের সঙ্গে নাকি কেউ কখনো খারাপ ব্যবহার করে না। খাওয়া নিয়ে তাদের চিন্তা করতে হয় না কখনো। মেজাজ খারাপ থাকলে মাঝেমধ্যে মারেন মা। পেটানোর পর আবার নিজেই কাঁদেন। জড়িয়ে ধরে আদর করেন ছেলেকে। কষ্টে ঘেরা একটা অতীত আছে তাঁর। তবে বর্তমানটাও যে খুব সুখের, তা কিন্তু নয়। ছেলেটাকে নিয়ে কোনোমতে পার করা হয় দিনগুলো। উপোস থাকার ভয় দূর হয় না কিছুতেই। পলাশ অবশ্য এসব নিয়ে ভাবে না তেমন একটা। খুব বেশি খিদে পেলে চুপি চুপি নিজেরই ঝুড়িতে থাকা একটা চকলেটের খোসা খুলে পুরে দেয় মুখে। এতে অবশ্য খিদে দূর হয় না। তবে দুধের স্বাদ ঘোলে কিছুটা হলেও মেটে। রোদ কমে। ধীরে ধীরে বিকেলের মিষ্টি আলোতে ছেয়ে যায় চারপাশটা। আমাদের কথা ফুরায় না। ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করার ছিল অনেক কিছুই। কথা বলতে মন্দ লাগছিল না। কিন্তু হাতে সময় নেই। চৌপর দিন আমার সঙ্গে গল্প করলে চকলেটগুলো কে বিক্রি করবে? তাই তো পথে জ্যাম লাগলেই ছুটে যায় পলাশ। ছুটে যায় মানুষের ভিড়ে। আকুতি দেখে তার কেউ হয়তো কিনে নেবে একটা চকলেট। তাতেই খুশি পলাশ। খুশি পলাশের মা। বড্ড বেশি খুশি। তখন অবাক লাগে। কত অল্পতেই-না খুশি হয়ে ওঠে এই মানুষগুলো!

লেখা টি প্রথম আলোর মানুষের মুখ ফিচার পাতা থেকে সংগৃহীত

লেখক: কিঙ্কর আহসান

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাটিতেছি

প্রথম আলো তে শ্রদ্ধেয় আসিফ নজরুল ইসলাম স্যারের সরকারি চাকুরি তে কোটা সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে একটি অতি বাস্তবধর্মী লেখা প্রকাশিত হয়েছে যা আপনাদের জ্ঞাতার্থে এখানে তুলে ধরলাম

কোটা (৫৫) বনাম মেধা (৪৫)

ডঃ আসিফ নজরুল

কিছুদিন আগে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এরপর মুখ চুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আমার বাসায় এসেছেন। তাঁদের আপত্তি বা হতাশা সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা নিয়ে। সরকারি কর্মকমিশন ২৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে ৬৫৭ জনকে। এই ৬৫৭ জনের মধ্যে ৩৪৭ জনই নিয়োগ পেয়েছেন বিভিন্ন কোটায়। বাকি মাত্র ৩১০ জন নিয়োগ পেয়েছেন মেধার ভিত্তিতে। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে শতকরা ৪৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় মেধার ভিত্তিতে, বাকি ৫৫ জনকে কোটার ভিত্তিতে। তাত্ত্বিকভাবে বললে, ১০০ জন নিয়োগ পেলে মেধার ভিত্তিতে ৪৬তম স্থান লাভকারীকে চাকরি না দিয়ে ১০০০তম স্থান লাভকারী ব্যক্তিকে কোটার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি দেওয়া যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৬ সালে সম্পন্ন হওয়া ২৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন প্রথম ২২৮ জন। অপরদিকে বিভিন্ন কোটার কল্যাণে ১৬১১তম হয়ে পররাষ্ট্র, ৫১০৪তম হয়ে প্রশাসন, ৫৩৭৭তম হয়ে কেউ কেউ পুলিশ ক্যাডারের চাকরি পেয়েছেন। পরবর্তী নিয়োগগুলোতেও এ রকম বহু ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে বেসামরিক সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে শতকরা ৫৫ ভাগ কোটা প্রধানত চার ধরনের সুবিধাভোগীদের জন্য সংরক্ষিত। প্রথমে এই ৫৫ ভাগকে জেলা/বিভাগ অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। জেলা/বিভাগওয়ারি বণ্টন শেষে সংশ্লিষ্ট জেলার অধীনে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় ৩০ ভাগ, শুধু জেলা কোটায় ১০ ভাগ (একে ‘সাধারণ মেধা কোটা’ বলা হয়), নারী কোটায় ১০ ভাগ এবং ‘উপজাতি’ কোটায় ৫ ভাগ লোক নিয়োগ করা হয়। কোটার জন্য বিবেচিত ব্যক্তিরা আবার মেধার ৪৫ জনের ক্ষেত্রেও বিবেচিত হবেন। উল্লেখ্য, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে এ রকম কোনো নির্দিষ্ট কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না।
এ ধরনের বৈষম্যের কারণে সরকারি চাকরির কোটাব্যবস্থা বারবার বিতর্কিত হয়েছে। কোটাবিরোধী আন্দোলনও হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু কোটাব্যবস্থা রয়ে গেছে কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে। যেমন, সম্প্রতি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোটায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রার্থী না পাওয়া গেলে কোটার জন্য নির্ধারিত শূন্য আসনসমূহ শূন্যই থাকবে। মেধাবীদের সেসব পদে আর নিয়োগ দেওয়া হবে না।

২.
কোটাব্যবস্থার অসংগতি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায়ও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যেমন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ড. আকবর আলি খান এবং সাবেক সচিব কাজী রকিবুদ্দিন আহমাদ ২০০৮ সালের মার্চ মাসে ‘Quota System for Civil Service Recruitment : An Exploratory’ শীর্ষক একটি গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেছেন। ওই গবেষণায় সংবিধান, বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা এবং অন্য দেশের তুলনামূলক অবস্থা পর্যালোচনা করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অধিকাংশ কোটাকে সংবিধান ও ন্যায়নীতির পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ গবেষণায় নিম্নোক্ত পাঁচটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেধার ভিত্তিতে মাত্র শতকরা ৪৫ জনকে নিয়োগ সংবিধানসম্মত নয়। সংবিধান বৈষম্যহীনতার কথা বলেছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ব্যতিক্রম হিসেবে (যেমন, সমাজের অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য) কোটাকে অনুমোদন করেছে। ব্যতিক্রমী নিয়োগ (শতকরা ৫৫ ভাগ) কখনো সাধারণ নিয়োগের (শতকরা ৪৫ লাভ) চেয়ে বেশি হতে পারে না।
সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদ নাগরিকদের ‘অনগ্রসর অংশের’ জন্য চাকরিতে বিশেষ কোটা প্রদান অনুমোদন করেছে বলা যায়। কিন্তু সংবিধান ‘অনগ্রসর অঞ্চলের’ জন্য কোনো কোটাকে অনুমোদন করে না। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুসারে এ ধরনের কোটার সুবিধা ভোগ করে অনগ্রসর অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত বিত্তবান ও সচ্ছল শ্রেণী, যাদের অবস্থা অন্যান্য অঞ্চলের অনেক মানুষের চেয়ে উন্নত। ফলে জেলা কোটার সাংবিধানিক ভিত্তি সন্দেহজনক।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এই কোটা কেবল তখনই যৌক্তিক হবে যদি প্রমাণ করা যায় যে মুক্তিযোদ্ধারা নাগরিকদের মধ্যে অনগ্রসর অংশ। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এই কোটার ভিত্তি আইনগতভাবে আরও দুর্বল।
সংবিধানের ২৮ এবং ২৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে নারী ও উপজাতিদের জন্য কোটা সংরক্ষণ আইনসম্মত ও বৈধ।
কোনো কোটাই চিরস্থায়ী হওয়া উচিত নয় এবং প্রতিটি কোটার প্রয়োজনীয়তা সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করা উচিত।
ড. খান ও জনাব রকিবের গবেষণার তথ্য অনুসারে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন পে ও সার্ভিস কমিশনের প্রায় সব সদস্য সরকারি নিয়োগে কোটাব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। কমিশনের সদস্যদের মধ্যে একমাত্র এম এম জামান কোটার পক্ষে অবস্থান নিলেও প্রচলিত কোটাসমূহ প্রথম ১০ বছর বহাল রেখে ১৯৮৭ থেকে পরবর্তী ১০ বছরে ধীরে ধীরে কমিয়ে দশম বছরে তা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন। অথচ ১৯৯৭ সালেই এই কোটাব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত করা হয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের এর আওতাভুক্ত করে। মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানের জন্য সংরক্ষণ করা নানা বিবেচনায় একটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিল।
প্রথমত, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য কোটা সংরক্ষণ করায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাদবাকিদের ওপর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০৫ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী দুই লাখ ১০ হাজার ৫৮১ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ ২১ হাজার ৩১৮ জন (গড় খানার আকার ৪ দশমিক ৮৫ ধরে)। সে হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানসন্ততির সংখ্যা দেশের জনসংখ্যার ৭ শতাংশর কম। এদের জন্য মোট শূন্যপদের ৩০ ভাগ সংরক্ষণ সমানুপাতিক নয়, যৌক্তিকও নয়। তা ছাড়া এই কোটা সংরক্ষণের কারণে একদিকে যেমন মেধাতালিকায় শীর্ষস্থানীয় একজন চাকরি থেকে বঞ্চিত হন, অন্যদিকে মেধাতালিকায় অধিকাংশের নিচে থেকেও কারও কারও গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি হয়ে যায়। ফলে সার্বিকভাবে দেশ মেধাবী আমলাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।
দ্বিতীয়ত, ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়োগের জন্য কোটা সংরক্ষণ করে তাঁরা যেন চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পান, সে কারণে তাঁদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা শিথিল করে ৩২ করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তাঁদের অবদান ও বিড়ম্বনার কথা বিবেচনা করে এটি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু বয়সের ঊর্ধ্বসীমার শিথিলতা স্বাধীনতার এক কিংবা দেড় দশক পর জন্ম নেওয়া তাঁদের সন্তানের বেলায় প্রয়োগের কোনো যুক্তি নেই।
তৃতীয়ত, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মধ্য থেকে উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে তাঁদের জন্য নির্ধারিত পদসমূহ শূন্য রাখায় প্রশাসনিক সচলতাও ব্যাহত হচ্ছে। ২৮তম বিসিএসে পেশাগত ও কারিগরি ক্যাডারে বিভিন্ন কোটায় ৮১৩টি পদের জন্য কোনো যোগ্য প্রার্থীই পাওয়া যায়নি। ফলাফল প্রকাশের এক মাসেরও কম সময় আগে পরিবর্তন করা আইনের কারণে পিএসসি কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছে এই পদগুলো শূন্য রেখে দিতে। অথচ কোটাহীন শত শত মেধাবী চিকিৎসক, প্রকৌশলী উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি পাননি।
ড. আকবর আলি খানের রিপোর্টে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখানো হয়েছে যে এ সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত ৩০ ভাগ কোটার খুব সামান্যই পূরণ হচ্ছিল। যেমন ২১, ২২ ও ২৫তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে যে এই বিসিএসগুলোতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত কোটার যথাক্রমে মাত্র ১০ দশমিক ৮, ২ দশমিক ২ ও ৫ দশমিক ২ ভাগ পূর্ণ হয়েছে। আর এই বিশাল সংখ্যায় পদ অপূর্ণ থেকে যাওয়ার মূল কারণ হলো কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিংবা অন্যান্য কোটায় উপযুক্ত প্রার্থীর স্বল্পতা। এ অবস্থায় যদি মেধাতালিকা থেকে এই শূন্য আসনগুলো পূর্ণ করা হয়, তাতে অন্যায় কী হয়?

৩.
কোটাব্যবস্থার সমর্থকেরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও কোটা আছে বলে যুক্তি দেখান। কিন্তু আমার জানামতে, সরকারি চাকরিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ কোটার ভিত্তিতে সংরক্ষণ করার নজির পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই। ভারতের উদাহরণ দিই। জনসংখ্যা অনুপাতে ভারতে সরকারি চাকরির যথাক্রমে ১৫ ও ৭ দশমিক ৫ ভাগ পদ দলিত শ্রেণী ও আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী সরকারি নিয়োগে কোটার সমষ্টি কোনোক্রমেই মোট শূন্যপদের ৫০ ভাগের বেশি হতে পারবে না। ভারতের এই কোটাব্যবস্থা কোনো চিরস্থায়ী পদ্ধতিও নয়। ১৬ নভেম্বর ১৯৯২ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে যে জাতীয় অনগ্রসর জনগোষ্ঠী কমিশন (National Commission for Backward Classes) গঠন করা হয়, তার অন্যতম দায়িত্বই হচ্ছে কোটাব্যবস্থায় নানা অসংগতি পর্যালোচনা করে এটির ক্রমাগত সংস্কার করা। কমিশন ইতিমধ্যে সাংবিধানিক পদাধিকারী, আমলা, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ সচ্ছল শ্রেণীর সন্তানদের ‘অন্যান্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনার অযোগ্য ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশেও ন্যায়পরায়ণতা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে কোটাব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। বিদ্যমান কোটাব্যবস্থায় শুধু যে বেসামরিক প্রশাসনের মান খর্ব হচ্ছে তাই নয়, মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট জোগাড়ের ক্ষেত্রে দিন দিন দুর্নীতি ও অনিয়মও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটি পরিবর্তন করে যুদ্ধাহত ও আর্থসামাজিক বিচারে অনগ্রসর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে শুধু তাঁদের সন্তানদের জন্য সমানুপাতিক কোটা রাখলে তা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য হবে। এ ছাড়া তাঁদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুবিধাও সরকার প্রদান করতে পারে। জেলা কোটার অবসান ঘটিয়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণের চিন্তাও সরকার করতে পারে।
কৃতজ্ঞতা: আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

চেতন ভগত

চেতন ভগত সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। টাইম সাময়িকী বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ মানুষের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ঠাঁই করে নিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই লেখক।

জন্ম ভারতের নয়াদিল্লিতে, ১৯৭৪ সালের ২২ এপ্রিল। তাঁর সম্পর্কে বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ এ আর রহমান বলেছেন, ‘অনেক লেখকই আছেন, যাঁরা তাঁদের হূদয়কে প্রকাশ করতে পেরেছেন লেখায়, অনেক লেখক নির্দিষ্ট ধাঁচে আপন ধ্যান-ধারণাকে প্রকাশ করতে পেরেছেন। চেতন ভগত হলেন এমনই এক লেখক, যাঁর বই একসঙ্গে দুটো কাজই করেছে, এমনকি তার চেয়ে বেশি কিছু করেছে।’ বই লেখার পাশাপাশি তরুণসমাজকে জাগিয়ে তোলার জন্য উৎসাহমূলক বক্তৃতাও করছেন চেতন ভগত। চেতন ভগত ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই পুনের সিমবায়োসিস ইনস্টিটিউট অব বিজনেস ম্যানেজমেন্টের এমবিএ শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যে বক্তৃতা দেন, তারই ভাষান্তর এই লেখাটি।

আমার যমজ ছেলে দুটোর লাখো ইচ্ছা, কোটি কোটি স্বপ্ন। ছোট একটা খেলনা স্পাইডারম্যানও তাদের বিছানায় লাফ-ঝাঁপ করাতে পারে। পার্কের দোলনার ক্যাচকেচে শব্দও তাদের শিহরিত করতে পারে। বাবার মুখ থেকে শোনা নিছক একটা গল্পও পারে তাদের অনুপ্রাণিত করতে। জন্মদিনের কেক কাটার জন্য কয়েক মাস আগে থেকেই তারা কাউন্টডাউন শুরু করে। তোমরা কি জানো, স্বপ্নের শুরুটা কোথায়? জানো কি, ইচ্ছাশক্তিরা কোথা থেকে আসে? আমি মনে করি, স্বপ্ন আর ইচ্ছাশক্তির জন্ম আমাদের জন্মের সঙ্গেই হয়।সবার জীবনের একই স্বপ্ন, সফল হওয়া। আর সফলতা হলো প্রদীপের শিখার মতো। প্রদীপ জ্বালাতে তুমি কী করো? প্রথমত, প্রদীপে তেল দাও, যেন জ্বলার জন্য যথেষ্ট জ্বালানি সে পায়। পাশাপাশি কিছু একটা দিয়ে প্রদীপটা আড়ালে রাখো, যেন তা ঝড়-বাতাসের আঘাতে দপ করে নিভে না যায়। সফল হওয়ার স্বপ্নটাও ঠিক সে রকমই। প্রথমত চাই প্রবল ইচ্ছাশক্তি, যার ওপর ভর করে তুমি সফলতার দিকে এগোবে। দ্বিতীয়ত, স্বপ্নটাকে আগলে রাখা চাই। স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে রাখতে হয়, যেন তা কোনোভাবেই ভেঙে না যায়।
বেশির ভাগই আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা তাই আমাদের কাছে বিরাট একটা অর্জন মনে হয়, আসলেও তাই। প্রতিদিনের চাওয়াগুলো যেখানে শুধু অর্থের কারণে ভেস্তে যায়, সেখানে অর্থনৈতিক মুক্তিই সবচেয়ে বড় সাফল্য। তবু এটাই জীবনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। তাই যদি হতো, মিস্টার আমবানি (মুকেশ আমবানি, ২০০৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় ৫৬তম) আর কোনো কাজ করতেন না। শাহরুখ খান আর নাচ-গান না করে বাড়িতেই বসে থাকতেন। পিক্সার (Pixar) বিক্রি করেই যেখানে কোটি কোটি টাকা কুড়িয়েছেন, উন্নত আইফোনের জন্য স্টিভ জব নিশ্চয়ই আর কঠোর পরিশ্রম করতেন না। তাঁরা এসব এখনো করছেন কেন? কী এমন জিনিস, যা তাঁদের টেনে আনে প্রতিদিনের কাজে, ভেবে দেখেছ কি? তাঁরা এটা করেন কারণ, এতে তাঁরা সুখ খুঁজে পান, আনন্দ পান। তাঁরা এটা করেন কারণ, কাজের মধ্যেই নিজেকে বাঁচিয়ে রাখেন তাঁরা। কাজের মধ্যেই তাঁরা জীবনকে উপভোগ করেন। তুমি যদি পরিশ্রমী হও, বেশি বেশি পড়াশোনা করো, তুমিও তোমার ফলাফলের মান বাড়াতে পারবে। যদি মানুষের সঙ্গে মিথোস্ক্রিয়া বা স্বতঃস্ফূর্ত মিতালি গড়ে তোলার চেষ্টা করো, দেখবে তুমি যেকোনো সাক্ষাৎকারে ভালো করছ। বেশি বেশি অনুশীলন করলে ক্রিকেটেও তুমি ভালো করতে পারো। এটা হয়তো ঠিক যে তুমি কখনোই টেন্ডুলকার হতে পারবে না। কিন্তু আগের চেয়ে আরেক ধাপ এগোতে তো পারবে। হ্যাঁ, সফল হওয়ার জন্য পরিশ্রম, অনুশীলন আর সংগ্রামের মাধ্যমে এক ধাপ করে এগোনোটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিশ্চয়ই কারও মুখে শুনে থাকবে, জীবন একটা কঠিন ও লম্বা দৌড়। আর আমি যেভাবে দেখেছি, জীবনটা হলো সেই দৌড়ের মতো, যেটা আমরা নার্সারি স্কুলে দৌড়েছি। মুখের মধ্যে একটা চামচ, চামচের ওপর একটা মার্বেল নিয়ে দিতে হবে দৌড়। মার্বেল ফেলে খালি চামচ নিয়ে সবার আগে দৌড়ের শেষ দড়িটা ছোঁয়ার কি কোনো মানে আছে? জীবনটাও ঠিক তাই। যেখানে নিজের স্বাস্থ্য আর মানুষের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক হলো মার্বেল। তোমার পরিশ্রম তখনই সার্থক হবে, যখন জীবনে ছন্দ আসবে। নইলে তুমি হয়তো সফল হবে, কিন্তু এই যে স্বপ্ন সজিব থাকার, আলোকিত হওয়ার, ধীরে ধীরে সেই স্বপ্ন শুকিয়ে মারা যাবে।
জীবনকে কখনোই সিরিয়াসভাবে দেখবে না। যোগব্যায়ামের ক্লাসে একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হাসানোর জন্য নানা গল্প করতেন। একদিন এক ছাত্র জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা স্যার, যোগব্যায়ামের ক্লাস থেকে হাসাহাসির গল্প বাদ দিলে কী হবে?’ স্যার বললেন, ‘সিরিয়াস নয়, সিনসিয়ার হও।’ স্যারের সেদিনের এই কথাটা আমার প্রেরণা জুগিয়েছে—কি লেখায়, কি কাজে কিংবা সবার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। দেখ, লেখালেখিতে প্রতিদিনই আমার নতুন নতুন ছক-মতের সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন প্রশংসা পাই আবার শুনতে হয় কঠোর সমালোচনাও। আমি যদি সবকিছুকেই গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিই, তাহলে কীভাবে আমি লিখব? কিংবা আমি বাঁচব কীভাবে? জীবনটাকে খুব কঠিনভাবে নেওয়ার কিছু নেই। এই তিনটা জিনিস মনে রেখ—লক্ষ্যটা হতে হবে যৌক্তিক, স্বপ্নের সঙ্গে কাজের থাকবে ভারসাম্য আর কাজ করবে আনন্দের সঙ্গে। হ্যাঁ, কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রাণে থাকা চাই আনন্দ। কটা ক্লাস ফাঁকি দেবে, ইন্টারভিউতে তালগোল পাকিয়ে ফেলবে, প্রেমে পড়বে—এসব হতেই পারে। আমরা তো আর মেশিন নই।
প্রথমত, স্বপ্ন ভাঙে যে ঝড়ে, তার নাম ব্যর্থতা। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুসারে না হয়, তখন তুমি নিজেকে ব্যর্থ মনে করো। পরিশ্রমের তুলনায় ফল না পেলে তুমি বিচলিত হয়ে যাও। ঠিক আছে। কিন্তু বড় হতে হলে নিজেকে আরও শক্ত করতে হবে। ব্যর্থতা এড়ানো খুবই কঠিন। তবে ‘ব্যর্থতা আমাকে কী শেখাল’ নিজেকে এই প্রশ্ন করতে হবে। নিজের ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে। হয়তো নিজেকে তুমি দুর্বল ভাবো। হীনম্মন্যতায় ভোগো। সবকিছুর আশা ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে ইচ্ছে করবে তোমার। যেমনটা আমার হয়েছিল, যখন নয় জন প্রকাশক আমার প্রথম বইটা প্রকাশ করার ব্যাপারে ‘না’ বলেছিলেন। জীবনটা আসলে তা-ই, প্রতিযোগিতায় ভরা। হীনম্মন্যতায় না ভুগে বারবার চেষ্টা-সাধনায় যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে হবে।
হতাশা হলো ব্যর্থতার মামাতো ভাই। তুমি কি কখনো হতাশ হয়েছ? তা আবার বলতে, কী বলো? যানজট থেকে শুরু করে কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে হতাশা ঘিরে ধরে আমাদের। হতাশা তোমার উত্তেজনার স্ফুলিঙ্গকে স্তিমিত করে দেয়। এবং সহসা নেতিবাচক ভাবনার সাগরে ডুবিয়ে অকাল মৃত্যু ডেকে আনে তোমার ভেতরের সুপ্ত ইচ্ছাটার। হতাশা তোমাকে তিলে তিলে তিক্ত করে দেয়। এ জন্য বড় হতে চাইলে হতাশাকে অবজ্ঞা-উপেক্ষা করতে শিখতে হবে।
আজকাল তো সবকিছু লাইন-ঘাটের ব্যাপার। যার বাবা ধনী, যার মুখ সুন্দর, তারা বলিউড থেকে শুরু করে যেকোনো জায়গায় সহজেই সুযোগ পাচ্ছে। গোটা দেশটা যেন বৈষম্যে ছেয়ে গেছে। তবু যা কিছু আছে, তা-ই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিত। একই সঙ্গে যা নেই, তাকে গ্রহণ করার মানসিকতাও থাকতে হবে। দেখ, আমি কিন্তু ঐশ্বরিয়া রাইকে অপছন্দ করি না। কিন্তু আমার দুটো ছেলে আছে, আমি মনে করি তারা ঐশ্বরিয়ার চেয়ে অনেক সুন্দর। হাল ছেড়ো না। কখনোই বৈষম্য-বিচিন্তায় নিজের স্বপ্নকে ছোট করে দেখবে না।
তুমি যতই বড় হবে, নিজেকে আলাদা করে আবিষ্কার করবে। তুমি যখন ছোট ছিলে, আর সব বাচ্চার মতো তুমিও কিন্তু আইসক্রিম খেতে ভালোবাসতে। এখন তুমি কলেজে পড়ছ। কলেজে তোমার মতো আরও অনেক ছাত্র আছে। কিন্তু ১০ বছর পরে নিজেকে সম্পূর্ণ একা দেখবে। তুমি যা চাও, যা তুমি বিশ্বাস করো, যেভাবে ভাবতে ভালোবাস, হয়তো কিছুই তার মিলবে না একেবারে পাশের মানুষটির সঙ্গে। কারও সঙ্গে তোমার স্বপ্নের মিল না দেখে তোমার মনের ভেতর এক ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। কিন্তু কখনোই স্বপ্নের সঙ্গে আপস করবে না। নিজেকেও ভালোবাসতে জানতে হয়। আগে নিজেকে ভালোবাস, তার পরে ভালোবাস অন্যকে।
তোমরা এখন জীবনের সবচেয়ে আনন্দের বয়সে আছ। কেউ যদি আমাকে অতীতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিত, নিশ্চয়ই আমি বেছে নিতাম কলেজজীবনকে। এই সময়ে সবার চোখ-মুখে থাকে জ্যোতি। শোনো, বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। তোমার জীবনেও স্বপ্নপূরণের পথে এ রকম বাধাবিপত্তি একের পর এক আসতেই পারে। বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য যেমন ছাতা কিংবা বৃষ্টির পোশাক ব্যবহার করো, ঠিক তেমনি স্বপ্নকেও তোমার সেভাবেই আগলে রাখতে হবে। তুমি, আমি সব মানুষই স্বপ্ন দেখি। সবার মধ্যেই আছে আলোর দ্যুতি। এ জন্যই আমি বলে থাকি, আমি এসেছি লাখো-কোটি নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত দেশ থেকে।

কৃতজ্ঞতা: লেখাটি সংগৃহীত হয়েছে প্রথম আলোর ২৩ জুন ২০১০ এর স্বপ্ননিয়ে ফিচার পাতা থেকে

জীবনানন্দ দাশের কবিত গুলো আমার অসম্ভব প্রিয়। সময় পেলেই পড়ার চেষ্টা করি। আজ রাতে এই কবিতাটি আমার মনে খুব লেগেছে আশা করি সকল পাঠকের ভালো লাগবে;

সন্ধ্যা হয় চারিদিকে শান্ত নীরবতা

সন্ধ্যা হয়- চারিদিকে শান্ত নীরবতা;

খড় মিখে নিয়ে এক শালিখ যেতেছে উড়ে চুপে;

গোরুর গাড়িটি যায় মেঠো পথ বেয়ে ধীরে-ধীরে;

আঙিনা ভরিয়া আছে সোনালি খড়ের ঘন স্তুপে;

পৃথিবীর সব ঘুঘু ডাকিতেছে হিজলের বনে

পৃথিবীর সব রূপ লেগে আছে ঘাসে;

পৃথিবীর বস প্রেম আমাদের দু’জনার মনে;

আশ ছড়ায়ে আছে শান্ত হ’য়ে আকাশে- আকাশে।

কদম ফুল কার না ভালো লাগে। বর্ষা এলেই চারিদিকে কদম ফোটার মহড়া শুরু হয়ে যায়।বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বিজনেস ফ্যাকাল্টির সামনে একটা কদম গাছ আছে সেই কদম গাছের বর্ষাকালে কি যো সৌন্দর্য্য স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।বর্ষা এলেই হাজারো কদম ফুটতো সেই গাছে। একটি কদম পাবার জন্য ছেলেদের কাছে মেয়েদের সেকি আকুতি।সেই কদম গুলো মেয়েদের নরম হাত ধরে পৌছে যেতো ক্লাশ রুমে।সব চেয়ে রাগী শিক্ষক গনও মেয়েদের হাতে কদম ফুল দেখো কেমন জানি আনমনা হয়ে যেতেন। কদমের এমন সৌন্দর্য্যকে কোন পাষাণ অবজ্ঞা করতে পারো

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.