Feeds:
পোস্ট
মন্তব্য

Google Re-Back the READER link in Gamil

Hmm … Maybe RSS isn’t dead after all? After the replacement of the Google Reader link in Gmail with a link to Google Photos caused a user revolt on Friday, Google has vowed to bring the beloved RSS product back and tells TechCrunch its removal was accidental.

And while Google is uncertain as to exactly when the highly dramaticized link will be back, the Gmail team is working hard on a fix and is targeting Monday morning, according to representative Victoria Katsarou.

So why remove the link in the first place? Google decides what links appear in the Gmail navigation bar based on popularity, i.e. page views, number of users and clicks from the bar. New products needing promotion are also considered. According to Katsarou, Google Photos (Picasa) had made the cut and was to join Reader in elite navigation bar status, with a fifth top level link added to the bar. Apparently someone somewhere made an error and the Reader link was dropped into the “More” menu instead.

The official Google Reader Twitter account tweeted about the mistake on Friday, but that hasn’t stopped people from emailing us about how upset they are about the change. Reader fan Craig Cosmo went as far as integrating the link back, in his Better Gmail browser extension.

So for those of you who can’t wait until the Google fix, you can get your precious Reader link back into Gmail here. You’re welcome.

Source: http://techcrunch.com/2011/01/23/google-says-removing-reader-link-in-gmail-was-a-mistake-aims-to-bring-back-monday/

It doesn’t come as a huge surprise, but it’s still staggering to think about: over the New Year’s weekend, Facebook saw 750 million photo uploads from its users. That’s a lot of celebrating, and it sets a new Facebook record.

The stat was just tweeted by Facebook marketing director Randi Zuckerberg (who is also founder Mark Zuckerberg’s sister). We’ve reached out to Facebook to ask what the last record was, but I’m guessing it was set over Halloween, which has historically been the biggest day for Facebook Photos.

To give some context to that number, in July Facebook said that more than 100 million photos get uploaded every day (that average is higher now, obviously). Here’s another stat: Flickr had its 5 billionth photo uploaded in September 2010 — Facebook would get that in a week or two if photos were uploaded at the rate they were last weekend. That’s a little apples-to-oranges (though Facebook does now offer support for high quality image uploads), but it gives a sense of the scale of Facebook Photos.

 

sources: Techcrunch

শুভ নববর্ষ সবাই কে

আজকে ইংরেজি বছরের প্রথম দিন। পুরাতন বছর 2010 কে পিছনে ফেলে নতুন পাবার আশায় বরণ করেছি 2011 সালকে। শুভ নববর্ষ সবাইকে। নতুন বছরে সবাই সুখি হবেন, দেশ সমৃদ্ধশালী হবে এটাই মন থেকে কামন। সবাই মিলে নতুন বছর সব কিছু ভালোর স্বপ্ন দেখুন শুধুই ভালো কাজগুলো করুন।

ড্যানিয়েল সল গোল্ডিন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সাবেক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (১৯৯২-২০০১)। গোল্ডিনের তত্ত্বাবধানেই ১৯৯৭ সালে মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গবেষণার মহাকাশযান ‘মার্স পাথফাইন্ডার’ যাত্রা শুরু করে। ১৯৪০ সালের ২৩ জুলাই নিউইয়র্কে তাঁর জন্ম। ২০০১ সালের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য দেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি খুব গর্বিত। আগের বছরের (২০০০) ঠিক এই দিন ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পাডুয়া আমাকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। সেখানেও আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমার প্রিয় মানুষ ও আদর্শ গ্যালিলিও গ্যালিলাই পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধ্যাপক ছিলেন। সেখানেই তিনি তাঁর প্রথম টেলিস্কোপটি বানিয়েছিলেন। সেই টেলিস্কোপ দিয়ে তিনি আবিষ্কার করেছিলেন মহাকাশের অনেক অজানা। পাডুয়াতেই তিনি সিডেরাস নানসিয়াস বইটি লিখেছিলেন। আমি আরও গর্বিত, কারণ পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঘরে গ্যালিলিও তখনকার সর্বসেরা শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিতেন, আমি সেই ঘরেই বক্তব্য দিয়েছিলাম। সেদিন ওখানে যে পোশাকটা পরেছিলাম, আজ সেটাই পরে আছি। মূলত এ পোশাকটা ওখানকার ঐতিহ্য।
কিন্তু তোমরা হয়তো ভাবছ, কেন আমি এই পোশাকটা পরে আছি? আমি এটা পরেছি তোমাদের স্মৃতিতে একটা প্রতিচ্ছবি ফেলার জন্য। সামনে তোমাদের জীবনের গূঢ় রহস্য উন্মোচনের দিন। তোমরা হয়তো আমাকে মনে রাখবে না। কিন্তু এই টুপি ও কোটটা তোমাদের চোখে ভেসে থাকবে।
আর মনে পড়বে গ্যালিলিওকে, তাঁর জীবন ও আদর্শকে। আমৃত্যু জ্ঞানচর্চা ছিল তাঁর জীবনের আদর্শ। তিনি উৎকর্ষ সাধনে নিজেকে ব্রত করেছিলেন। তিনি শুধু সত্যের জন্য লড়াই করতেন তা-ই নয়, তিনি বিশ্বাস করতেন যে সত্যকে তিনি আবিষ্কার করতে পারবেন। গ্যালিলিওর মতো তোমরাও স্বাপ্নিক হও, সৃজনশীল ও সাহসী হও।
মনে রাখবে, ভয় নামের ঘোর কুয়াশা ও নিন্দুকের সমালোচনার আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে অজানা কোনো সত্য। এই সত্যকে জানতে হলে প্রাণে সাহস থাকা চাই। অবশ্যই নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে। অজানাকে জানার অদম্য ইচ্ছা ও কৌতূহল থাকতে হবে, লক্ষ্য হতে হবে অটুট।
দেখো, বিগত ৫০ বছরে বড় বড় অনেক অর্জন-আবিষ্কার আমরা করেছি। জেট বিমান থেকে মহাশূন্যে অভিযাত্রা, টিভি থেকে এমপিথ্রি, ইন্সট্যান্ট কফি থেকে তাৎক্ষণিক বার্তা প্রেরণ। এসব আবিষ্কার ও উদ্ভাবন কেবল পৃথিবীকেই বদলে দেয়নি, বদলেছে পৃথিবীতে আমাদের অবস্থানকেও।
আরও যেসব অনাবিষ্কৃত সমস্যা আছে, তোমরাই পারো তার সমাধান বের করতে। অবশ্য সে জন্য তোমাদের প্রশ্ন করার অভ্যাস থাকতে হবে।
দেখো, আমরা এখনো আগের মতোই কম গতির বিমানে উড়ে বেড়াই। এখনকার কম্পিউটারগুলো শুধু গণনা করতে পারে, এগুলোর চিন্তাশক্তি বলে কিছু নেই। কিন্তু উৎকর্ষ সাধনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও সত্যানুসন্ধানের সাহস যাদের আছে, তোমাদের মেধা ও শ্রমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একদিন এসব সমস্যা উবে যাবে।
সেদিন কম্পিউটারগুলো কাজ করবে মানব-মস্তিষ্কের মতো। পাখি যেভাবে ওড়ে, বিমানগুলো সেদিন সেভাবেই আকাশে উড়ে বেড়াবে। প্রযুক্তি-ব্যবস্থা হবে স্বনিয়ন্ত্রিত। সিলিকন চিপভিত্তিক বর্তমান কম্পিউটারের খোঁজ সেদিন শুধু জাদুঘরেই মিলতে পারে, ঠিক ডাইনোসরদের পাশে।
যদি উৎকর্ষ সাধন ও সত্যানুসন্ধানই তোমার লক্ষ্য হয়, তবে তোমার স্বপ্ন আর গ্যালিলিওর স্বপ্ন একটাই। যেসব রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি, একদিন তোমরাই তার আরোগ্য লাভের পথ দেখাবে। যে জীবনায়ু নিয়ে একজন মানুষ জন্ম নেয়, কমপক্ষে সেই সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার পথটা পৃথিবীকে তোমরাই দেখাবে। বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার যে রদবদল, তার সঠিক সমাধানও তোমরাই বের করবে। আমাদের সৌরজগতের বাইরে, মহাকাশের নক্ষত্ররাজিতে একদিন তোমরা অভিযান চালাবে। তোমরা হয়তো আকাশপানে তাকিয়ে প্রশ্ন করবে, যে প্রশ্নটা আদিম মানুষেরাও করত, আমরা কি একা?
এসব স্বপ্ন দেখা কি উচ্চাভিলাষী? স্বপ্নগুলো কি আকাশ সমান বড় বা ঝুঁকিপূর্ণ? জেনে রেখো, নিশ্চিতভাবে নিন্দুকের সমালোচনার ফাঁদে তুমি পড়তে পারো। সন্দেহ নেই, বেশ কিছু বিপদ তোমার সামনে আসবে। কিন্তু ভুলে যেয়ো না, গ্যালিলিওকে তাঁর বিশ্বাসের জন্য গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। মানুষ তাকে বিপথগামী ভেবেছিল। তোমরা ভয় পেয়ো না। জেগে ওঠো। মন থেকে ভয় ঝেড়ে ফেলো। সামনের দিকে এগিয়ে যাও।
জীবনে ব্যর্থ না হওয়াটা উৎকর্ষের উদাহরণ নয়। বরং ব্যর্থতা বলে দেয় যে তোমার স্বপ্নটা অসাধ্য কিছু নয়। কঠোর পরিশ্রম দিয়ে ব্যর্থতাকে তুমি জয় করতে পারো। ব্যর্থতা কোনো প্রতিবন্ধক হতে পারে না, যদি না তুমি একে এড়িয়ে যাও কিংবা ব্যর্থতা থেকে শিখতে না চাও।
সফল হওয়ার পর তুমি কীভাবে প্রতিক্রিয়া করো—তাতে তোমার চরিত্রের প্রকৃত রূপটা ফুটে উঠবে না। ব্যর্থ হওয়ার পর তুমি কী করো, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেকে বিশ্বাস করো। শেখা, উৎকর্ষ সাধন ও সত্য প্রকাশে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকো। এটাই ছিল গ্যালিলিওর শিক্ষা। এই শিক্ষাটা আমি আমার বাবার কাছ থেকেও পেয়েছি। এখানে দাঁড়িয়ে আছি—এটা দেখতে পেলে তিনি খুব গর্বিত হতেন। সম্ভবত তিনিও প্রশ্ন করতেন, ‘ড্যান, তোমার গায়ে এই পোশাক কেন?’ তবে তিনি খুশি হতেন নিশ্চয়।
ছয় বছর হলো বাবা মারা গেছেন। গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় আমার বাবা কলেজ থেকে জীববিজ্ঞানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। পরের বেশ কয়েক বছর তিনি কোনো চাকরি পাননি। তিনি ডাকঘরে কাজ করেছিলেন। অবশেষে অবশ্য শিক্ষক হয়েছিলেন তিনি, এ পেশাটাকে তিনি খুব পচ্ছন্দ করতেন।
জীবনভর শেখার আত্মপ্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর। তিনি সর্বদাই সত্য বলতেন। একইভাবে নিজের একমাত্র ছেলেকেও সে রকমই দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।
সবাই বলে, তোমরা হলে ভবিষ্যৎ। আর আমি বলি, ভবিষ্যৎ এখনই। সুতরাং কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনীশক্তি এবং দুঃসাহসিকতা দিয়ে অভিযান চালাও, আবিষ্কার করো, বিশ্বটাকে দাও বদলে।
ভালোবাসা ও কাজ—দুটোর জন্যই সময় রাখো। তোমরা ব্যস্ত হয়ে পড়বে, কিন্তু কখনোই পরিবার ও বন্ধুদের ভুলে যেয়ো না।
আমি আগেও বলেছি, গ্যালিলিও যদি বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি এখানে শিক্ষকতা করতে চাইতেন। আরেক দিক থেকে গ্যালিলিও এখানে রয়েছেনু। প্রকৃতপক্ষে, আমার সামনে তোমরা দুই হাজার ৪০০ গ্যালিলিও বসে আছো, যারা আজ ডিগ্রি পাবে।
তোমরা কখনোই তোমাদের আবিষ্কারকে অমূলক মনে করবে না। জীবনভর জ্ঞানচর্চা করো। উত্তরোত্তর উৎকর্ষ সাধনে ব্রত হও। শুধু সত্যের সন্ধান করো না, নিজেকেও বিশ্বাস করো। তাহলেই তুমি সত্যকে খুঁজে পাবে।
অভিনন্দন সবাইকে। তোমাদের যাত্রা শুভ হোক।

ছোট দুটি ছেলেমেয়ে —– তারা ভাইবোন। ভাইটা বড় আর তার প্রিয় ছোট বোন। ভাইটাকে রেখে ছোট বোনের বিদায় অথবা চিরতরে কোথাও চলে যাওয়া ——- পরপারে হতে পারে। গানটা শুনে দেখে মেনে নেওয়া যায় না। কিছুতেই সহ্য হচ্ছিল না গানের কথাগুলো, দৃশ্যগুলো — No Need To Say Good Bye (বিদায় বলার কোন দরকার নেই)

মাইকেল ডেল। ডেল ইনেকর প্রতিষ্ঠাতা। জন্ম ১৯৬৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে পড়তেন জীববিজ্ঞান নিয়ে। কিন্তু কম্পিউটার নিয়েই ছিল তাঁর কৌতূহল। সেই কৌতূহল ও নিজের প্রতি অগাধ বিশ্বাসই তাঁকে ডেল ইন্ক প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ২০০৩ সালের সমাবর্তনে তিনি এ বক্তব্য দেন।

Michel Delএখানে আসতে পারা সম্মানের বিষয়। আমি জানি, তোমরা ও অভিভাবকেরা অনেক বছর ধরে এই দিনটার প্রতীক্ষায় ছিলে।
এখন রাত, কিন্তু আসলে তোমরা ভাসছো চমৎকার একটা ভ্রমণের ভেলায়। যেখানেই যেতে চাও, যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্তটা পাকাপোক্ত হলেই ভেলা চলতে শুরু করবে। পৃথিবীর অনেক অবদান, অগণিত অর্জন শেষাবধি সম্ভব হয়নি, শুধু শুরু না করার কারণে।
তোমরা সাফল্যের সঙ্গেই মহৎ, সম্মানজনক ও তাৎপর্যময় কিছু (ডিগ্রি) অর্জন করেছ। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা তোমাদের। কিন্তু সেসব সিদ্ধান্ত নিতে তোমাকে নিরুৎসাহিত যেন কেউ করতে না পারে। তোমার সামনে অফুরন্ত সম্ভাবনা। তাই বলে সঠিক সুযোগটা বেছে নিতে অযথা সময় নষ্ট কোরো না, তাহলে সুযোগটাই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
চলতি পথে অনেক ব্যর্থতা আসবে, সেটা স্বীকার করে নাও। মনে রেখো, অনেক বাধাবিপত্তি আসতেই পারে। তোমার ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে, অন্যদের ভুল থেকেও। সাফল্যের মধ্যে কমই শেখা যায়।
তোমার সামনে কঠিন দিন আসবে, বিস্ময়কর সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে—এসব জেনেই অভিযাত্রার অঙ্গীকার করতে হবে। নিজের যে দক্ষতা আছে আর যা শিখেছ, তার ওপর ভর করেই এগিয়ে যাও। কেননা, কোনো কিছু শুরু করতে না পারা থেকেই পরিতাপের জন্ম হয়।
যাত্রা শুরুর পর, আগের গৎবাঁধা সব পথ-ম্যাপ ছুড়ে ফেলতে হবে। পথচলার পরিকল্পনা নতুন করে নিজেই বানাতে হবে।
তোমার আরেকটা বাড়তি সুবিধা আছে, বাঁধাধরা চিন্তাচেতনার ভারে নিশ্চয়ই নুয়ে পড়োনি তুমি। পৃথিবীকে দেখার ভঙ্গিটা তোমার অভিনব ও চিরসতেজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত সময়গুলো তোমার আবিষ্কারের চেতনা ও কৌতূহলকে শাণিত করতে সাহায্য করেছে। আর কৌতূহলই তোমার সাফল্যের সবচেয়ে বড় সহায়ক।
অভিনব ও ভিন্ন কিছু করার সুযোগ প্রায়ই পাবে। অবাঞ্ছিত বিষয় বর্জন করতে কিংবা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো কিছুর উৎকর্ষসাধনের সুযোগও তুমি পাবে। কিন্তু এ পথে যারা আগে হেঁটেছে এবং যারা দূরদর্শী, তাদের সাহচর্যে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ নতুন ধ্যানধারণা নিয়ে কখনো কখনো তুমি বিশাল কিছু অর্জনের সুযোগ পেতে পারো, যা আগের প্রচলিত ধারণাকেই পুরো পাল্টে দিতে পারে।
তোমার চারপাশের জগৎটাকে বোঝার চেষ্টা করো। বই পড়ো। ওয়েবসাইট দেখো। চারপাশের মানুষকে জানো। সমূহ বিপদগুলোকে চিহ্নিত করো এবং সুবর্ণ সুযোগগুলোতে গুরুত্ব দাও। স্বপ্ন দেখো সর্বোচ্চ ভালো করার। আর স্বপ্নটা সত্যি করতে পরিশ্রম করো প্রাণপণে।
ভ্রমণের জন্য যে পথটা তুমি বেছে নিয়েছ, মনে রেখো, সেই পথ শক্ত ও মজবুত করতে যে পাথর প্রয়োজন, তা হলো চারপাশের মানুষের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক।
সবচেয়ে বড় যে ভুলটা তুমি করতে পারো, তা হলো তুমি একাই সবকিছু সুসম্পন্ন করতে পারবে—এটা ভাবা।
ডেলে আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হচ্ছে একটা শক্তিশালী দল তৈরি ও তার উত্তরোত্তর উৎকর্ষ সাধন করা। এ কাজে আমি নিজের সম্পূর্ণটা উজাড় করে দিই। যারা সেকেলে ধারণাকে বাদ দিয়ে নতুন চেতনায় উদ্দীপ্ত এবং উৎকর্ষসাধনে যারা সদাব্রত, তাদের পাশে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষাটা আমি অনেক আগেই পেয়েছি। সে সব মানুষ যেন সফল হয়, সেজন্য তাঁদের সাহায্য করতে শিখেছি।
নিজেকে সর্বোত্তম দক্ষ ভেবো না। আরও বুদ্ধিমান, আরও দক্ষ যারা, তাদের পরামর্শ নাও। আমরা একে অপরের জন্য। একজন নেতা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা ও অর্জনগুলোর পেছনের শক্তি হচ্ছে অন্যদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক।
পথচলার সময় অবশ্যই মনে রাখবে, তুমি কোত্থেকে এসেছ। যে জায়গায় আমাদের জন্ম, সেখানকার ধুলোবালি আর স্বপ্ন সবাই আমরা লালন করি।
পুরো পথেই নিজেকে প্রশ্ন করবে তুমি, ‘আমি কেন এই পথে?’ এর একটা উত্তর আমি তোমাদের বলতে পারি। সেটা হলো, জিততে। এই জেতাটা হচ্ছে নিজের সম্ভাবনাময় শক্তির জয়। এই জেতাটা হলো শ্রেষ্ঠ হিসাবরক্ষক, প্রকৌশলী অথবা শিক্ষক হওয়ার যে সম্ভাবনা তোমার মধ্যে আছে, সেটার জন্য নিজেকে বিশ্বাস করা। অন্য কারও সাফল্য দেখে নিজের সফলতাকে বিচার কোরো না।
আমি খুব সৌভাগ্যবান যে আমি আমার আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছে সম্পর্কে সন্দেহাতীত ছিলাম জীবনের শুরু থেকেই। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। কিন্তু কম্পিউটারের সব বইপত্র, যন্ত্রপাতি আমাকে খুব টানত। হলে আমার রুমমেটও সে রকমই বলত। ১৯ বছর আগে (১৯৮৪), আমার বয়স তখন ১৯। আমি ডেল নিয়ে কাজ শুরু করি, হলের ওই ঘরেই।
কোন বিষয়ে তার আগ্রহ বেশি—এটা অনেক মানুষই অনেক পরে জানতে পারে। আবার কেউ কেউ আছে, যারা এটা কখনোই জানতে পারে না। এরই মধ্যে তুমি যদি তোমার লক্ষ্যটাকে স্থির করে থাকো অথবা খুঁজছ এমন হয়, মনে রেখো, কৌতূহলই এনে দেবে তোমার জীবনের সফলতা।
স্বপ্ন সত্যি করতে তোমার ভেতরে যে ‘তুমি’ আছে, তার কথা শুনতে হবে। আকাঙ্ক্ষা যদি বড় হয়, তোমার স্বপ্ন সত্য হবেই। সততা, নৈতিকতা ও আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে হবে। যদি তোমার স্বপ্নের সঙ্গে আপস না করো, তুমি সফল হবেই।
এটা একটা ভ্রমণের কথা, যাত্রা পথের কথা, যে পথে আমরা হেঁটে এসেছি। বেশির ভাগ সময়ই আমরা একসঙ্গে হাঁটি, যেমনটি তোমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনা করলে। তবুও শেষে কিন্তু তুমি একা। এটা তোমার একারই পথচলা।
পথ বেছে নিতে তুমি যেমন স্বাধীন, সফল হওয়াটাও তোমার জন্য উন্মুক্ত। দরকার শুধু কঠোর পরিশ্রম এবং একটা স্বপ্ন। আজ যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করলে, তাদের অনেকেই জান না যে, তোমরা পৃথিবীটাই বদলে দিতে যাচ্ছ এবার। আমি জানি, সত্যিই তোমরা পৃথিবীটা বদলে দেবে। কীভাবে বদলাবে, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তোমাদেরই।
তোমাদের আগামী দিনের চলার পথ রোমাঞ্চকর হোক। অভিনন্দন তোমাদের।

ল্যারি পেইজ

সফলদের স্বপ্নগাথা ইন্টারনেট জগতে সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে কে না চেনে। ল্যারি পেইজ এই গুগলের উদ্ভাবক। আজ থেকে ১২ বছর আগে ১৯৯৮ সালে ল্যারি ও তাঁর বন্ধু সার্জি ব্রিন মিলে গুগলের যাত্রা শুরু করেন। গুগলের স্বপ্নদ্রষ্টা লরেনস ল্যারি পেইজ ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৯ সালের ২ মে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই বক্তৃতাটি দেন।

অনেক দিন আগের কথা। ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বর মাস। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিভিন্ন কাজ থাকত। তারই একটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রান্নাঘরের দেয়াল ও ছাদ থেকে ময়লা পরিষ্কার করা। আর ওই ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে মা ও বাবার পরিচয়। সুতরাং আমার আসা সেখান থেকেই। আমার বাবা এই মিশিগানেই কম্পিউটার যোগাযোগ বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কিন্তু এটা তিনি করেছেন ৪৪ বছর আগে। বাবা ও মা নিজেদের পোশাকগুলো নিজেরাই তৈরি করেছেন। আমার বাবার পোশাক আমি পরেছি, আমার পোশাক আমার ছোট ভাই পরেছে। আরও কত কী!
আমি এগুলো বলছি কারণ, এটাই হচ্ছে আমার এত দূর আসার পথ। আমি ব্যাখ্যা করতে পারব না যে এখানে আসতে পেরে আমি কতটা গর্বিত।
স্বপ্নপূরণের জন্য আমার একটি গল্প আছে। অথবা সত্যিকারের স্বপ্ন খুঁজে পাওয়ার জন্যই আমার গল্পটি আমাকে সহায়তা করে।
তুমি কি জানো, মধ্যরাতে রঙিন স্বপ্ন দেখে কীভাবে জেগে উঠতে হয়? এবং তুমি কি জানো, তোমার বেডের পাশে কাগজ আর কলম না থাকলে ওই স্বপ্ন তুমি কীভাবে মনে রাখবে?
আমার যখন ২৩ বছর বয়স, তখন এ রকম স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম। হঠাৎ করে যখন আমি জেগে উঠলাম, ‘তখন চিন্তা করছিলাম, আমরা কি পুরো একটি ওয়েব পেজ ডাউনলোড করতে পারি শুধু এর লিংকটা দিয়ে?’
তখনই আমি একটি কলম ও খাতা নিয়ে লেখা শুরু করে দিলাম। মাঝেমধ্যে এভাবে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে জেগে উঠতে হয়। আমি মধ্যরাত পর্যন্ত সময় ব্যয় করেছি চিন্তাভাবনা করতে। আমি আমার উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি ব্যাপারটি নিয়ে। তিনি আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তুমি চালিয়ে যাও, তুমি পারবে।’ কখনো চিন্তা ছিল না আমরা একটি ‘সার্চ ইঞ্জিন’ তৈরি করতে পারব। কিন্তু আমাদের চেষ্টা দিয়ে সফল হলাম। এভাবেই গুগলের জন্ম।
যখন আমি মিশিগানে ছিলাম, তখন চিন্তা করতাম, কীভাবে স্বপ্নকে বাস্তবে আনা যায়। আমি বিভিন্ন কর্মশালায় গিয়ে নিজেকেই নিজে অনুপ্রাণিত করেছি। আমি মনে করি, স্বপ্ন কখনো হারায় না। সাময়িকভাবে লুকিয়ে থাকে মাত্র। যদি আমরা কঠোর পরিশ্রম করতে পারি, আর সেই পরিশ্রম যদি কোনো লক্ষ্য ঠিক রেখে করা যায়, তবে সমাধান আসবেই আসবে।
আমি মনে করি, উচ্চাশা সফল করা সম্ভব। সফল করতে অনেক বেশি উত্তেজিত হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু তোমাকে তোমার সঙ্গে মৃদু প্রতিযোগিতা করতে হবে প্রতিনিয়ত। সর্বোচ্চ ভালো মানুষেরা বড় বড় চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কাজ করতে চান। যেমনটি গুগলে হয়েছিল। আমাদের উদ্দেশ্য, পৃথিবীর সব তথ্য একত্র ও বিশ্বজনীন করা এবং সহজে যাতে ব্যবহার করা যায়। আমি ও আমার সহযাত্রীরা যখন গুগলে কাজ শুরু করলাম, তখন ভীষণ চিন্তায় ছিলাম, আমার পিএইচডি থমকে না যায়! কিন্তু আমি পিএইচডি সম্পন্ন করেছি। সুতরাং তোমাকে তোমার মূল রাস্তায় থাকতে হবে, তারপর তোমার কাজ। এটা অনেকটা বৃষ্টির সময়ের মতো। মানে, বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটার সময় তোমাকে ছাতার চেয়ে নিচের দিকে খেয়াল বেশি রাখতে হবে; না হলে গর্তে পড়ে তোমার শরীর নোংরা পানিতে ভিজে যাবে।
প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে সবাই অনেকটা অলস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনই উপযুক্ত সময় তোমার আলোড়িত হওয়ার। তুমি কি পারো তা দেখিয়ে দিতে। সুতরাং স্বপ্নে বসবাস করার ইচ্ছে বাদ দিলে চলবে না। কারণ তোমাকে পৃথিবীর দরকার।
কোনো এক সকালে তুমি অনেক আত্মবিশ্বাসী হবে। কিন্তু সৃষ্টির নেশা যদি থাকে, তবে তাকে ভুলে যাওয়া যাবে না। তুমি তোমাকে অন্যের থেকে আলাদা ভাববে এবং মনে করবে, তুমি যে সুযোগ পেয়েছ, কেউ তা পায়নি। সুতরাং তোমাকে এটা শেষ করতে হবে। তোমাকে পার্থক্য করতে হবে অন্যের থেকে তোমার কাজের মাধ্যমে। তারপর তোমার জীবনই তোমাকে বয়ে নিয়ে বেড়াবে।
১৯৯৬ সালের মার্চে বাবা মারা গেলেন। বাবা মারা যাওয়ায় আমি অত্যন্ত হতাশার মধ্যে পড়ি। কিন্তু আমি আমার অস্তিত্বকে খুঁজে পাই বাবার মধ্যে। বাবা বলতেন, ‘আমরা পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। তার মধ্যে এক নম্বর হলো অটোমেশন বা স্বনিয়ন্ত্রিত যান্ত্রিক ব্যবস্থা, দুই. কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষা থাকবে অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার মধ্যে। আমাদের একটা অংশকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে বিজ্ঞানের উন্নয়নে, মেডিসিনে এবং শিল্প খাতে, না হলে আমাদের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে। এর মাধ্যমেই একটি জাতির ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেবে তার আগামী প্রজন্মকে। যদি আমেরিকার সব যুবক শিক্ষার মধ্যে তাদের খুঁজত, তবে আমেরিকা আরও উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতো।
গুগলের যাত্রাপথে অনেক বাধার সম্মুখীন আমরা হয়েছি; কিন্তু আমরা তার সমাধান করে সামনে চলে এসেছি। আমি মনে করি, আমি যতটুকু না পেরেছি, তার চেয়ে বেশি পেরেছে আমার বয়সটা। আমার ওই ২৩-২৪ বয়সটাই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সুতরাং আমি মনে করি, তোমরা স্বপ্ন দেখো অনেক বড় হওয়ার কিংবা বড় কিছু করার। সঙ্গে সেই স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায় তার চিন্তা তোমাকেই করতে হবে। আর যদি তা করতে পারো, তবেই তুমিই সাফল্যের গায়ে তিলক আঁকতে পারবে। আর আমি যদি পারি, তোমরাও পারবে। এখন হাতের নাগালে প্রযুক্তির ছোঁয়া। সুতরাং চেষ্টা চালিয়ে যাও। আর চেষ্টা চালাও অনেক ভালো স্বপ্ন দেখতে। যে স্বপ্নের মধ্যে থাকবে তোমাকে আলাদা করার ক্ষমতা।

প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর নিরলস সংগ্রামকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। এবারের মূল রচনা আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেবে নিরলস সংগ্রামি এবং দূরদর্শী চিকিৎসক সামন্তলাল সেনের সঙ্গে।

মানব সেবক ডাঃ সামন্তলাল সেন

নিমতলী। এ নামটি আজ আর স্রেফ কোনো ঠিকানা নয়। আগুনের লেলিহান শিখা, রাতের স্নিগ্ধ দিগন্তজুড়ে মৃত্যুদূতের লাল থাবা, একবুক শুদ্ধ বাতাসের জন্য মরণাপন্ন মানুষের গগনবিদারী আহাজারি আর প্রাণপ্রিয় স্বজনের জীবন্ত দগ্ধ হওয়ার দৃশ্য বুকে নিয়ে সবহারা মানুষের কলজে ছেঁড়া মাতমের আরেক নাম এখন নিমতলী। এত মৃত্যু, এত কান্না, এত বিষাদের মধ্যেও ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের করিডরে নিমতলী শোকগাথার সাক্ষী বেঁচে যাওয়া অসহায় নিঃস্ব আহত মানুষগুলোর মৃত্যুভয়ে ভীত চোখে নতুনভাবে বেঁচে থাকার আশা জাগিয়ে তোলার চেষ্টায় সেবারত যেকোনো চিকিৎসক, সেবিকা কিংবা ওয়ার্ডবয়কে নিমতলীর কথা জিজ্ঞেস করলে একরাশ বেদনাহত অনুভূতির পর ভেসে উঠবে একটুকরো তৃপ্তি আর গর্বের হাসি। এ তৃপ্তি দুস্থ মানবতার সেবা করার, দেশের একমাত্র বার্ন ইউনিটের অংশ হতে পারার তৃপ্তি; এ গৌরবের একজন সামন্তলাল সেনের মতো নিঃস্বার্থ মানবসেবীর সাহচর্যে কাজ করতে পারার গৌরব।
‘বাবার বরাবরই শখ ছিল আমাকে ডাক্তারি পড়াবেন। বাবার চাকরিসূত্রে দিনাজপুরে থাকাকালীন স্কুল-কলেজের পাট চুকিয়ে ভর্তি হই চট্টগ্রাম মেডিকেলে। তারপর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যোগ দিই। সেখানে আমার পরিচয় হয় পঙ্গু হাসপাতালের রূপকার ডা. গার্স্টের সঙ্গে। প্রথম দিনই তিনি আমাকে বললেন প্লাস্টিক সার্জারিতে কাজ করার জন্য। এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে আমিও রাজি হয়ে গেলাম।’ ক্যারিয়ারের শুরুর কথা বলছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা, রূপকার ও বর্তমান প্রকল্প পরিচালক ডা. সামন্তলাল সেন।
১৯৪৯ সালে সিলেটের বিশ্বনাথে ওসমানীনগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম এই প্রথিতযশা চিকিৎসকের। নিজের পরিবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা জিতেন্দ্রলাল সেন ছিলেন সামান্য সরকারি চাকুরে। মা ছায়া সেন অতি সাধারণ একজন গৃহিণী। কিন্তু আমার কাছে তাঁরা দুজনই ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। অতি সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়ে হয়েও আমরা পাঁচ ভাই, এক বোনের সবাই আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত, শুধু তাঁদের দুজনের ত্যাগ ও দূরদৃষ্টির জন্য। দুজনই স্বর্গবাসী হলেও আমি এখনো তাঁদের দেখানো পথেই চলি। প্রতিদিন সকালে কাজে বের হওয়ার সময় মা-বাবার ছবিকে প্রণাম করে বের হই। মৃত্যুর মাসখানেক আগে মা আমাকে বলেছিলেন, ডাক্তার হিসেবে গরিব-দুঃখীর সেবা করাই যেন আমার জীবনের একমাত্র ব্রত হয়। তাহলেই তাঁর আত্মা শান্তি পাবে। মায়ের সে কথাকেই আমি আমার কাজের মূলমন্ত্র হিসেবে মানি। মা-বাবার আশীর্বাদই আমার সাফল্যের বড় সূত্র।’
১৯৮২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগ দেওয়ার পরই মূলত পাল্টে যায় তাঁর জীবনদর্শন। শুরু হয় এক বৃহত্তর অর্জনের পথে নিরলস, নিঃস্বার্থ যাত্রা। ডা. সেন বলছিলেন সে সময়ের কথা, ‘স্বপ্ন ছিল বড় প্লাস্টিক সার্জন হব। মানুষের ঠোঁট, নাক, মুখের গড়ন ঠিক করব। কিন্তু এখানে এসে প্রথম অনুভব করলাম এসিডে পোড়া মেয়েদের কষ্ট, আগুনে পোড়া গরিব মানুষের দুর্দশা। এর মধ্যেই একবার আমার বড় মেয়ে অসুস্থ হলে ওর মুখে ছোটখাটো একটা দাগ হয়। ওর বয়স তখন ১০-১১। স্বাভাবিকভাবেই আমাকে একদিন দুঃখ করে বলল, কীভাবে এই দাগ যাবে। আমি তখন এসিডে পোড়া একটি মেয়ের ছবি ওকে দেখিয়ে বললাম, তোমার মুখের দাগ তো চলে যাবে, কিন্তু ভাবো, ওর কী দুঃখ। আমার মেয়ে তখন আমাকে বলে, যেন আমি এসব মেয়ের দুঃখ দূর করার জন্য কিছু করি। সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমার জীবন উৎসর্গ করব পোড়া রোগীদের সেবায়।
‘আমার বা আমার ছেলেমেয়েদের সাফল্যের পেছনে যার হাত সবচেয়ে বেশি, সে আমার সহধর্মিণী, রত্না সেন। এমবিএ করে নিজে চাকরি করেছে, পরিবার সামলেছে আর আমাকে দূরে রেখেছে পারিবারিক সব ঝামেলা থেকে। নইলে আমি যে চাকরি করতাম, তা করে পরিবার সামলে আবার এত বড় একটা কাজে সময় দেওয়া, সফল হওয়া ছিল অসম্ভব। ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্বতন্ত্র বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার পথ মোটেই সহজ কাজ ছিল না।’ ডা. সেন বলছিলেন সেই সময়ের প্রতিকূলতার কথা, ‘আমার সঙ্গে তখন আরও ছিলেন দেশের প্রথম প্লাস্টিক সার্জন মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ও কবিরউদ্দীন আহমেদ। ঢাকা মেডিকেলের একটি ওয়ার্ডে মাত্র আটটি বিছানা ছিল আমাদের জন্য বরাদ্দ, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। আমরা তিনজনই ঠিক করলাম, আগুনে পোড়া রোগীদের জন্য স্বতন্ত্র কিছু করতে হবে। ১৯৮৬ সালে সরকারের কাছে আবেদন করলাম আলাদা বিভাগ করার অনুমতি ও জায়গা চেয়ে। অনুমতি পেলাম, জায়গাও পেলাম, কিন্তু গোল বাধল জায়গা দখল নিয়ে। এখন যেখানে আমাদের ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে ছিল চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের থাকার জন্য শতাধিক ঘর। প্রায় প্রতিদিন আমাকে টেলিফোনে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো, যাতে এই প্রকল্প থেকে আমি সরে আসি। তখনই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন কর্মচারী সমিতির সভাপতি কালাম সরদার ও অন্যরা। আওয়ামী লীগের শেখ সেলিম সাহেবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এ ব্যাপারে। ১৯৯৩ সালে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তবে যাত্রা শুরু করে আমাদের এই স্বতন্ত্র ইউনিট।’
নিমতলী দুর্ঘটনার রাতের সেই ভয়াল স্মৃতি এখনো যেন ক্ষত হয়ে আছে ডা. সেনের হূদয়ে। সে স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে কিছুটা যেন থমকে যান তিনি। সামলে নিয়ে বলেন, ‘নিমতলীতে আগুন লাগার খবর পাই আমি রাত নয়টার দিকে। প্রথমে অবস্থার ভয়াবহতা বোঝা না গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই যখন খবর পেলাম অবস্থা খারাপ। আমি নিজে রওনা হয়ে যাই। যাওয়ার পথে সম্ভাব্য সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ইউনিটে আসতে বলি। হাসপাতালে পৌঁছে প্রথমে চোখে পড়ে সারিবদ্ধ লাশ। একটু এগিয়ে যেতেই দেখলাম, চারদিকে শুধু যন্ত্রণাকাতর আগুনে ঝলসানো মানুষ। বয়স্ক পুরুষ-নারী, শিশু—কে নেই আহতদের মধ্যে! একের পর এক আহতদের নিয়ে আসা হচ্ছিল তখনো। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, আমার ৪০ বছরের চাকরিজীবনে এত পোড়া রোগী দেখিনি কখনো। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের চিৎকার, আহাজারি, আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠল চারপাশ। এ রকম দুর্যোগ সামাল দেওয়ার মতো জনবল, সুযোগ-সুবিধা, পূর্ব অভিজ্ঞতা কিছুই ছিল না আমাদের। কিন্তু তাই বলে বসে ছিল না কেউ; ক্যাজুয়ালটিসহ মেডিকেলের অন্য বিভাগের ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় এমনকি ছাত্রছাত্রীরা পর্যন্ত নিজেদের মতো করে যে যেভাবে পেরেছে আহতদের সেবা করেছে। অনেক নার্সকে দেখলাম, সাদা পোশাক ছাড়াই চলে এসেছে। ঢাকা মেডিকেলের এক ছাত্রী এসে জানতে চাইল কী করতে পারে সে। আমি বললাম, আহতদের চিকিৎসা দিতে না পারো, ট্রলি তো ঠেলতে পারো। সে তা-ই করল। এখনো ৫০ জন রোগীর চিকিৎসা সুবিধাসংবলিত হলেও আমরা ২৩১ জন পোড়া রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছি, যার সবই সম্ভব হয়েছে এখানকার জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক থেকে শুরু করে ওয়ার্ডবয় পর্যন্ত সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায়।’
প্রতিষ্ঠার এই ১৭ বছরে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বার্ন ইউনিটের কর্মপরিধি বেড়েছে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও আছে অনেক। ডা. সেন বলছিলেন, ‘শুধু যে আগুনে পোড়া রোগীর চিকিৎসা আমরা করি, তা কিন্তু নয়। আমাদের প্লাস্টিক সার্জনরা কাটা আঙুল লাগানোর মতো জটিল অপারেশনসহ ঠোঁটকাটা, তালুকাটা ইত্যাদি ধরনের অপারেশন করেন। এ ছাড়া আমাদের আরেকটি প্রকল্পের আওতায় আমরা ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে বিনা মূল্যে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা বাচ্চাদের অপারেশন করে থাকি। নার্সের সংখ্যা বাড়ানো, তরুণ ডাক্তারদের জন্য স্পেশালিটি কোর্স চালু করা, এখানকার কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে নিয়ে আসাসহ আরও বেশ কিছু সুপারিশ প্রক্রিয়াধীন আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবারই আমাদের অতি প্রতীক্ষিত আইসিইউ চালু হয়েছে। আগুনে পোড়া রোগীদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ আমাদের ইউনিট থেকেই নেওয়ার পরিকল্পনাও আছে।’
শুধু বার্ন ইউনিটেই সীমিত নয় তাঁর কর্মপরিধি। এসিডে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রত্যন্ত এলাকায় ছুটে যান প্রতিনিয়ত। অকাতরে কাজ করে চলেছেন এসিডদগ্ধদের পুনর্বাসন বা আত্মকর্মসংস্থানের পথ করে দেওয়ার জন্য। বলছিলেন, ‘এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিল ও ট্রাস্টের সদস্য আমি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠায় অনুদান দিয়ে সহায়তা করেছে প্রথম আলো।’
ডা. সেনের কাছ থেকে বিদায় নেব, এমন সময় দেখা হলো সেই কালাম সরদারের সঙ্গে। সময়ের পরিক্রমায় এখন তিনি ষাটোর্ধ্ব প্রৌঢ়। বললেন, ‘সেন স্যারের মতো ভালো মানুষ খুব নাই। শুধু স্যাররে পছন্দ করার কারণে এই বার্ন ইউনিটের জন্য ১৩৫টি ঘর ভাইঙা দিছিলাম। আজকে বুঝি, কত বড় একটা কাজ স্যার শুরু করছিলেন সেদিন। আর আমরা কত ভাগ্যবান যে এই কাজের সাথে ছিলাম। বার্ন ইউনিট মানেই সেন স্যার; সেন স্যার মানেই বার্ন ইউনিট।’
ডা. সেন মুচকি হাসলেন; বললেন, ‘আসলে এটা ঠিক; আমি নিজেও অনেক সময় আলাদা করতে পারি না আমাকে এটা থেকে। এই ইউনিটটিকে মনে হয় আমার সন্তানের মতো। আমার সব কাজ, মনোযোগের কেন্দ্র বার্ন ইউনিট। প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে যেমন আমি আমার ছেলেমেয়েদের দেখে আসি, তেমনি ইউনিটে ফোন না করে আমি ঘুমাতে পারি না। আমার বাচ্চাদের গায়ে একটা আঁচড় লাগলে আমার যেমন কষ্ট, তেমনি বার্ন ইউনিটের কোনো ক্ষতি হলে আমার ততটুকুই কষ্ট হয়।’
২০০১ সালে কালীগঞ্জে ঠোঁটকাটা একটি মেয়েবাচ্চার অপারেশন করেছিলেন ডা. সেন। ২০০৭ সালে আবার যখন সেখানে যান, খবর পেয়ে সেই মেয়েটি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চলে আসে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে। ‘যে বিদ্যা শিখেছি, তা দিয়ে চাইলে অনেক টাকা কামাতে পারতাম। কিন্তু সাদা অ্যাপ্রোনটা যখন গায়ে দিই, তখন সেই মেয়েটির শ্রদ্ধাবনত দৃষ্টি আর এসিড কিংবা আগুনে দগ্ধ অসহায় রোগীদের চোখের সেই বাঁচার আকুলতা আমাকে অর্থলোভী হতে দেয় না।’ ডা. সামন্তলাল সেন পথ চলতে চান এই সহজ-সুন্দর জীবনদর্শন নিয়েই।

কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো

সুখেই আছে পলাশ

রাজু চত্বরের পাশ দিয়ে হাঁটছি। রোদ্দুরে ঘেমে-নেয়ে একাকার। দু-একজন ফুলবালিকা ফুল নিয়ে আসছে বারবার। হাতের টুকরিতে বাসি ফুল। গোলাপের পাপড়িতে পড়েছে কাঁলচে দাগ। ধমক দিলেও শোনে না মেয়েগুলো। না কেনা পর্যন্ত নিস্তার নেই ওদের কাছ থেকে। পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতেই চোখ পড়ে পলাশের ওপর। আমাকে দেখে এগিয়ে আসে। বলে, ‘চকলেট ন্যান্ ভাইজান। প্রতিটা এক টাকা।’ কথায় অনুরোধের চেয়ে আদেশের সুরই বেশি। হাতের ঝুড়িতে ওর কমদামি চকলেট। এগুলো বিক্রি করেই দিন চলে ছেলেটার। টিএসসিতে সময় কাটাতে আসা মানুষগুলোর প্রায় সবাই-ই চেনে পলাশকে। মাথায় ছোট করে ছাঁটা চুল। মুখে হাসি লেগে থাকে সব সময়। মায়া মায়া দুটো চোখ। পরনে হাফপ্যান্ট। পুরোনো হলেও গায়ের ধোয়া কোর্তা আর সব পথশিশু থেকে আলাদা করেছে তাকে। সারা দিনের বিক্রিতে খুব একটা আয় হয় না। তাতে দুঃখ নেই। গাল টিপে আদর করি ওকে। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও একটা চকলেট কিনি। তারপর পাশে বসিয়ে গল্প শুরু করি।
পলাশের বাড়ি ভৈরবে। বাড়ির কথা মনে পড়ে না খুব একটা। থাকে মায়ের সঙ্গে। ছোট্ট একটা বোন ছিল। বড় আদরের বোন। মা কাজে বাইরে গেলে পলাশই সব সময় থাকত বোনকে নিয়ে। বোনটাও ভাই-ন্যাওটা। ঘর বলতে তাদের আছে কোনোরকমের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই। সেখান থেকেই একদিন বোনটাকে চুরি করে নিয়ে যায় কারা যেন। তারপর খোঁজা হয়েছে অনেক। মা আর ছেলে মিলে পথে ঘুরে ঘুরে করেছে বিলাপ। লাভ হয়নি তাতে। পাওয়া যায়নি বোনটাকে। এই নিয়ে কিছুদিন মন খারাপ ছিল পলাশের। যায়নি কাজে। তারপর আবার যেইকে সেই। খেতে তো হবে। কষ্ট ভুলে চকলেটের ঝুড়িটা নিয়ে আসা হয়েছে টিএসসিতে। ভালোই আছে পলাশ। সবাই তাকে ভালোবাসে।
টিএসসিতে অনেকগুলো সংগঠন। সেখানকার বড় ভাই আর আপুগুলো আদর করেন পলাশকে। তাঁদের সঙ্গে দুষ্টুমি করলে কিছু বলেন না। অনেক জ্বালাতনের পর কখনো কখনো কিনেও নেয় দু-একটা চকলেট। বিক্রি হওয়ার পর টাকা তুলে দেয় সে মায়ের হাতে। পলাশের কাছে এটাই জীবন। এর বেশি কিছু ঢোকে না তার মাথায়। ইশকুলের কথা তোলা হয় না আমার। ঠিকমতো খেতেই পায় না যে ছেলেটি ইশকুল তো তার কাছে বিলাসিতার শামিল।
বন্ধুর সংখ্যাও কম নয় পলাশের। সমবয়সী অনেকেই চকলেট আর ফুল বিক্রি করে। তাদের সঙ্গে মজা করে মারামারি করা হয়। কখনো পরিত্যক্ত পলিথিন পেলে তাতে কাগজ ভরে খেলা হয় ফুটবল। ক্যানটিনে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী খেতে এলেই দল মেলে হাত পাতা হয়। কেউ কিছু দেয়, আবার কেউ বা তাড়িয়ে দেয় দূর-দূর করে। তখন মন খারাপ হয়। গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো ধনী মানুষ হতে ইচ্ছে করে। তাদের সঙ্গে নাকি কেউ কখনো খারাপ ব্যবহার করে না। খাওয়া নিয়ে তাদের চিন্তা করতে হয় না কখনো। মেজাজ খারাপ থাকলে মাঝেমধ্যে মারেন মা। পেটানোর পর আবার নিজেই কাঁদেন। জড়িয়ে ধরে আদর করেন ছেলেকে। কষ্টে ঘেরা একটা অতীত আছে তাঁর। তবে বর্তমানটাও যে খুব সুখের, তা কিন্তু নয়। ছেলেটাকে নিয়ে কোনোমতে পার করা হয় দিনগুলো। উপোস থাকার ভয় দূর হয় না কিছুতেই। পলাশ অবশ্য এসব নিয়ে ভাবে না তেমন একটা। খুব বেশি খিদে পেলে চুপি চুপি নিজেরই ঝুড়িতে থাকা একটা চকলেটের খোসা খুলে পুরে দেয় মুখে। এতে অবশ্য খিদে দূর হয় না। তবে দুধের স্বাদ ঘোলে কিছুটা হলেও মেটে। রোদ কমে। ধীরে ধীরে বিকেলের মিষ্টি আলোতে ছেয়ে যায় চারপাশটা। আমাদের কথা ফুরায় না। ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করার ছিল অনেক কিছুই। কথা বলতে মন্দ লাগছিল না। কিন্তু হাতে সময় নেই। চৌপর দিন আমার সঙ্গে গল্প করলে চকলেটগুলো কে বিক্রি করবে? তাই তো পথে জ্যাম লাগলেই ছুটে যায় পলাশ। ছুটে যায় মানুষের ভিড়ে। আকুতি দেখে তার কেউ হয়তো কিনে নেবে একটা চকলেট। তাতেই খুশি পলাশ। খুশি পলাশের মা। বড্ড বেশি খুশি। তখন অবাক লাগে। কত অল্পতেই-না খুশি হয়ে ওঠে এই মানুষগুলো!

লেখা টি প্রথম আলোর মানুষের মুখ ফিচার পাতা থেকে সংগৃহীত

লেখক: কিঙ্কর আহসান

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাটিতেছি

Older Posts »

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.